সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩২ অপরাহ্ন
সুরা ফাতিহা পবিত্র কুরআনের প্রথম সুরা এবং ইসলামের দৃষ্টিতে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি। এটি শুধু কুরআনের সূচনা নয়, বরং পুরো কুরআনের মূলভাব ও শিক্ষা সংক্ষেপে ধারণ করে। তাই একে বলা হয় “উম্মুল কিতাব” বা কিতাবের জননী। প্রতিদিন নামাজে বারবার পাঠ করার মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করেন এই সুরার মাধ্যমে।
সুরা ফাতিহায় রয়েছে মোট সাতটি আয়াত। এতে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা, তাঁর একত্ব, দয়া ও বিচার দিবসের মালিকানা ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা এবং সরল পথের হিদায়াত কামনা করা হয়েছে। এই সুরা মূলত বান্দা ও রবের মধ্যকার এক আন্তরিক সংলাপ।
রাসুলুল্লাহ ﷺ সুরা ফাতিহাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সুরা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হাদিসে এসেছে, সুরা ফাতিহা ছাড়া কোনো নামাজ পূর্ণ হয় না। অর্থাৎ ফরজ, সুন্নত কিংবা নফল—সব নামাজেই এটি অপরিহার্য। শুধু ইবাদতেই নয়, রোগমুক্তি ও আত্মিক প্রশান্তির ক্ষেত্রেও সুরা ফাতিহার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম অসুস্থ ব্যক্তির জন্য এটি পড়ে শিফা লাভের ঘটনা হাদিসে উল্লেখ করেছেন।
সুরা ফাতিহা আমাদের শেখায়—জীবনের সব ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহর ওপর নির্ভর করতে। দুনিয়ার লোভ, ভয় ও হতাশার মাঝেও আল্লাহর পথ অনুসরণ করাই প্রকৃত সফলতা। প্রতিদিন এই সুরা পাঠের মাধ্যমে একজন মুসলমান নিজের ঈমান নবায়ন করেন এবং সঠিক পথে চলার অঙ্গীকার করেন।
সবশেষে বলা যায়, সুরা ফাতিহা শুধু নামাজের অংশ নয়; এটি একজন মুমিনের পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন। এর অর্থ ও মর্ম উপলব্ধি করে পাঠ করলে ইবাদত আরও অর্থবহ ও হৃদয়গ্রাহী হয়ে ওঠে।