সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন
ভিনেগার শুধুমাত্র রান্নায় ব্যবহৃত হয় না, অনেকেই পানির সঙ্গে মিশিয়ে এটি পান করেন। টক এবং নোনতা স্বাদের এই তরলে রয়েছে বিভিন্ন উপকারী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং খনিজ লবণের সমাহার। এই উপকারী তরলটি বিভিন্ন ফলের গাঁজন বা ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। নিয়মিত ব্যবহার করলে এটি বেশ কিছু গুরুতর রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।
চর্বি জমা থেকে রক্ষা করে
খাবার খাওয়ার আগে বা সময়ের মধ্যে সামান্য পরিমাণ ভিনেগার, বিশেষ করে আপেল সাইডার ভিনেগার পান করলে শরীরে খারাপ কোলেস্টরল (এলডিএল) কমে। এটি অপ্রয়োজনীয় চর্বি জমতে বাধা দেয় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে
শরীরে ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভিনেগার সহায়ক। মেডিসিন নেটে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভিনেগার কার্যকর।
ক্ষুধা কমায়
ওজন কমাতে ভিনেগারের সরাসরি যোগসূত্রের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা না থাকলেও, এটি রুচি কমিয়ে ও হজম সহজ করে বলে অনেকের ধারণা। ওয়েবমেডের গবেষণা অনুযায়ী, দিনের একটি সময়ে ১ থেকে ২ চা-চামচ ভিনেগার পানে ক্ষুধা কমিয়ে দিতে পারে।
মাসিকচক্রকে স্বাভাবিক করে
নারীদের অনিয়মিত মাসিকচক্রের অন্যতম কারণ পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিসিওএস)। নিয়মিত ভিনেগার পান করলে এলএইচ (লুটিনাইজিং হরমোন) এবং এফএসএইচ (ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন) এর অনুপাত ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।
জীবাণু ও প্রদাহকে প্রতিরোধ করে
ভিনেগার শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে। এর অম্লীয় গুণগুলি পরিপাকতন্ত্রের কার্যক্রমকে সহজ করে, যা ত্বক ও পেটের স্বাস্থ্য উন্নত করে।
কিভাবে খাবেন
ভিনেগার অত্যন্ত অম্লীয়, তাই সরাসরি খাওয়ার পরিবর্তে পানি, সালাদ বা অন্য কোনো খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে পান করা উচিত। সাধারণত দুটি ধরনের ভিনেগার বাজারে পাওয়া যায়: সাদা ভিনেগার এবং গাঢ় লালচে আপেল সাইডার ভিনেগার। আপেল সাইডার ভিনেগারের অম্লীয় মাত্রা সাদা ভিনেগারের চেয়ে কম, তাই প্রতিদিন ১-২ চা-চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার খেলে উপকার পাওয়া যায়।
আপেল সাইডার ভিনেগারের পরিবর্তে সাদা ভিনেগার খেতে চাইলে, সঙ্গে পানি, অন্য ফলের জুস বা সালাদ মিশিয়ে নিন। রাতে ঘুমানোর আগে ঠান্ডা বা গরম পানির সঙ্গে ২ টেবিল চামচ ভিনেগার মিশিয়ে পান করুন। শরীরের প্রদাহ, ঠান্ডা বা কাশি দূর করতে মধুর সঙ্গে ভিনেগার মিশিয়ে পান করতে পারেন।
কারা খাবেন না
ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গ্যাস্ট্রোপেরেসিস বা আলসারের সমস্যা থাকলে ভিনেগার খাওয়া উচিত নয়। বুক জ্বালাপোড়া, পেটে ফোলা ভাব ও বমি বমি ভাব থাকলে ভিনেগার খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। গলা জ্বললে ভিনেগার খাওয়ার চেষ্টা না করাই উত্তম। অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে ভিনেগার পান না করাই ভালো। অন্য কোনো ওষুধ চলমান থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিনেগার খাওয়া উচিত নয়।
কিছু সাবধানতা
প্রতিদিন ২ টেবিল চামচের বেশি ভিনেগার গ্রহণ করা উচিত নয়। পানি, সালাদ বা অন্য কোনো খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। ভিনেগারের অ্যাসিডিক লেভেল দাঁতের জন্য ক্ষতিকর, তাই তরলের সঙ্গে মিশিয়ে স্ট্র দিয়ে পান করুন। সম্ভব না হলে ভিনেগার পান করার পর ভালোভাবে কুলি করে নিন। শিশুর খাবারে ভিনেগার দেওয়া উচিত নয়।
সূত্র: মেডিসিন নেট, হেলথ লাইন, ওয়েবমেড