সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ন
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নির্দেশে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি পরিচিত ও আলোচিত নাম ছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক চিন্তা ও অবস্থান তুলে ধরেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে কঠোর ও সমালোচনামূলক বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। এসব বক্তব্যে ছাত্রলীগ ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা মারাত্মকভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
ডিবি প্রধান আরও জানান, সরাসরি গুলি চালানো ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া হত্যার পর পালিয়ে যেতে ফয়সাল ও অপর আসামি আলমগীরকে সহযোগিতা করেন তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, যিনি পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর ছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং নিহত হাদির পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি ছিল নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
মামলার তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া দুইটার দিকে রাজধানীর বক্স কালভার্ট এলাকায় রিকশায় যাওয়ার সময় শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু হয়।