সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত ১৫ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয়। ওই শুনানিতে পলকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ এবং জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম অংশ নেন।
শুনানিকালে প্রসিকিউশনের উত্থাপিত তিনটি অভিযোগ অস্বীকার করে আসামিপক্ষ দাবি করে, আলোচিত ঘটনার সঙ্গে জয় ও পলকের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন না করে মামলা থেকে অব্যাহতি চাওয়া হয়। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের পক্ষে বিস্তারিত যুক্তি তুলে ধরে।
গত ১১ জানুয়ারি চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করেন। সেদিন তিনি আনীত তিনটি অভিযোগ পাঠ করে শোনান এবং আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরুর আবেদন জানান।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে জুনাইদ আহমেদ পলক ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এর পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সদস্যরা হামলা চালায়। একই সঙ্গে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা, মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ওই হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ মোট ২৮ জন শহিদ হন। মামলার তৃতীয় অভিযোগে উত্তরা এলাকায় সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডে সহায়তার বিষয় উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত ১০ ডিসেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয়কে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই দিনে গ্রেপ্তার অবস্থায় পলককে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ আদালত গ্রহণ করে।