সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন
রাজধানীর তেজতুরী বাজার এলাকায় সংঘটিত আলোচিত মো. আজিজুর রহমান মোসাব্বির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জিন্নাত (২৪), মো. বিল্লাল, আব্দুল কাদির (২৮) এবং মো. রিয়াজ (৩১)।
রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও পেছনের পুরো চক্র শনাক্তে ডিবির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস খুঁজে বের করা এবং সেগুলো উদ্ধার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পলাতক আসামিদের ধরতে ডিবির তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৭ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে পশ্চিম তেজতুরী পাড়ার হোটেল সুপার স্টারের পাশের একটি গলিতে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে (৪৪) হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে। ওই হামলায় মোসাব্বিরসহ আরও একজন গুলিবিদ্ধ হন।
ঘটনার পর আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত ব্যক্তি সুফিয়ান বেপারী মাসুদ (৪০) কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ডিবি সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং হত্যার মোটিভ নির্ধারণে মাঠে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। ডিবির একাধিক টিম ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য যাচাই করে অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিত করে।
এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে দুই শ্যুটারের একজন জিন্নাত, হত্যার মূল সমন্বয়কারী বিল্লাল, ঘটনার পর আসামিদের আত্মগোপনে সহায়তাকারী আব্দুল কাদির এবং ঘটনার আগের দিন ঘটনাস্থল রেকি করা রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল এবং নগদ ৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।