শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) বরাবরই উত্তেজনা, রোমাঞ্চ এবং প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের জন্য আলোচনায় থাকে। কিন্তু এর পাশাপাশি বিতর্কও যেন পিছু ছাড়ে না। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক সংক্রান্ত জটিলতা এবার যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বিরুদ্ধে আগে থেকেই অর্থ পরিশোধে গড়িমসি করার অভিযোগ থাকলেও এবারের আসরে বিষয়টি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। বিদেশি ক্রিকেটারদের ম্যাচ বয়কট, অনুশীলন বাতিল, এমনকি দলের সঙ্গেই না থাকার মতো ঘটনা এবার বিপিএলের সুনামকে গভীর সংকটে ফেলেছে।
এই অভিযোগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি এখন শুধুমাত্র বিপিএলের অভ্যন্তরীণ ইস্যু নয়, বরং পুরো দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিসিবির নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগের এমন অব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক মহলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সত্য উদ্ঘাটনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় এই সংকট নিরসনের লক্ষ্যে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। সেখানে বিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন।
খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক না পাওয়া প্রসঙ্গে ক্রীড়া উপদেষ্টা সরাসরি বলেন, ‘আমরা আজ রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকের সাথে কথা বলেছি। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে শীঘ্রই বকেয়া পরিশোধ করবেন। তবে যদি তিনি এই প্রতিশ্রুতি না রাখেন, তাহলে আর কোনো আলোচনার জায়গা থাকবে না। আমরা আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো। আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি যে, সময়মতো অর্থ পরিশোধ না করলে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে হবে।’
এছাড়াও তিনি জানান, বিপিএলের আয়োজন এবং ব্যবস্থাপনা কতটা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি সত্যান্বেষী কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের কাজ হবে টুর্নামেন্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির আর্থিক লেনদেন, খেলোয়াড়দের পাওনা পরিশোধের নির্ভরযোগ্যতা এবং বিপিএল পরিচালনায় কোনো গাফিলতি হয়েছে কি না, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
বিশ্ব ক্রিকেটে যখন ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি লিগগুলো বিপুল জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক অব্যবস্থাপনার কারণে এটি বিতর্কিত হওয়া দুঃখজনক। খেলোয়াড়দের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন না হলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক তারকারা বিপিএল এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে শুধু লিগের মান নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিসিবির জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর উপর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা এবং খেলোয়াড়দের পাওনা দ্রুত পরিশোধে বাধ্য করা। আইনি পদক্ষেপ নিলে হয়তো সাময়িক সমাধান আসবে, কিন্তু ভবিষ্যতে যেন এই ধরনের সংকট তৈরি না হয়, তার জন্য বিপিএলের নীতিমালা ঢেলে সাজানো জরুরি। যদি এটি না করা হয়, তবে খুব শিগগিরই বিপিএল শুধুমাত্র বিতর্কিত লিগ হিসেবেই পরিচিতি পাবে।