শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
পল্লীবধূর মৃত্যুশোক
(আঞ্চলিক ভাষার কবিতা)
অরূপ রতন
আসমান থাইক্কা আলো আইয়ে আৎকা রাইতে।
মনডা কয় কেডা জানি লাইট মারলো।
দিনের আলোর লাহান ফকফক কইরা উডে –
উডান, বিচরা, বেবাক বাড়ি যদ্দুর দেহা যায়।
হের বাদে যে আওয়াজডা হুনলাম,
কইলজাডা ধরফর কইরা উঠলো !
আসমানে যুদ্ধ লাগছে এই মাথা থাইক্কা হেই মাথায়।
দু’চালা টিনের ঘর, মাইজখান্দা বোউত্তা ফুডা।
আইন্দারের মইদ্দে তুমার শইলডা ফকফক কইরা উঠলো।
লইজ্জা লাগে, এমনে তুমারে দেহিনাই কুনুদিন, এর লাইগগা।
ঠাডার আওয়াজ হুইননা ফালদা উইট্টা
তুমি আঞ্জাদা ধরলা আমারে।
কিতা গো- ডরাইছো?
ডরাইয়ো না, আমি তো আছি, ঠাডা ফরে।
নতুন বউ’র শইল কপ্তাছে ডরে।
আইঞ্জাদা ধইরা রাখছে আমারে।
এই দিনডা, এই সময়ডার কতা ক্যামনে কইতাম ভাই !
ইডা বুঝাইন যাইতো না কইয়া।
ফরের মাসঅই বিচরাত্তে গুরু আনতো গিয়া হাঞ্জাকালা
ঠাডা ফইরা বউডাও গেলো, গুরুডাও গেলো।
বউ, ও নতুন বউ;
কই গেলা গো আমারে থইয়া?
দেহো- আমি ত আছি, তুমি ডরাইলা কেরে?
আইজকা রাইতেও মেঘ আইছে।
তুফান-ঠাডা ফরতাছে।
টিনের চালের ফুডা দিয়া ঘরের ভিরতে;
লাইট মারে আসমান।
আমি এলহা ফাল’দা উডি ঘুমেত্তে।
উইট্টা দেহি- তুমি নাই !